বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে দিয়েছে যে প্রযুক্তি, তার নাম ব্লকচেইন (Blockchain)।
এটি এমন একটি ডিজিটাল রেজিস্টার বা খতিয়ান, যেখানে অনলাইনে সম্পন্ন প্রতিটি লেনদেনের তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে।
ব্লকচেইনের বিশেষত্ব হলো—এখানে কোনো একক কর্তৃপক্ষ নেই।
বরং পুরো নেটওয়ার্কের হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে তথ্য যাচাই করে।
ব্লকচেইন প্রযুক্তির সূচনা হয় ২০০৮ সালে।
আরও পড়ুন: স্ট্যাবল কয়েন: ক্রিপ্টো দুনিয়ার স্থিতিশীল মুদ্রা
সাতোশি নাকামোটো (Satoshi Nakamoto) প্রথমবারের মতো এটি ব্যবহার করেন বিশ্বের প্রথম ক্রিপ্টোমুদ্রা বিটকয়েন (Bitcoin) তৈরিতে।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই নিরাপদ অনলাইন লেনদেনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এই প্রযুক্তি কাজ করে একাধিক ব্লক বা ডেটা ইউনিটের মাধ্যমে।
প্রতিটি ব্লকে থাকে লেনদেনের তথ্য ও একটি বিশেষ ডিজিটাল স্বাক্ষর বা ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ।
যখন নতুন একটি ব্লক তৈরি হয়, তা আগের ব্লকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি চেইন গঠন করে—এ কারণেই এর নাম ব্লকচেইন।
এই গঠন পদ্ধতির কারণে কোনো তথ্য একবার রেকর্ড হয়ে গেলে তা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লকচেইন শুধু ক্রিপ্টোমুদ্রার জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ভোটিং, স্বাস্থ্যসেবা, সাপ্লাই চেইন ও সরকারি ডেটা ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাতে পারে।
স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও বিকেন্দ্রীকরণের কারণে একে অনেকে ডিজিটাল বিশ্বাসের নতুন প্রযুক্তি হিসেবেও অভিহিত করছেন।









