ছোটবেলায় আমরা কমবেশি সবাই এমন সুপার হিরোদের দেখেছি যারা হাই পাওয়ার চশমা পড়ে সব কিছুর রেকর্ড করে ফেলত, দৃশ্য রিওয়াইন্ড করতে পারতো।
আবার চশমা দিয়েই সোর্সের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতো! সেই ফ্যান্টাসি সত্য করে গুগল ২০১০ সালে তাদের গুগল গ্লাসের ঘোষণা দেয়।
প্রযুক্তিকে ১০ গুন এগিয়ে নেওয়ার প্রজেক্ট ‘মুনশট’ তিন দফায় তিনটি এডিশন বাজারে এনে অবশেষে ২০২৩ সালে নিজের সমাধি রচনা করে। কিন্তু গুগল গ্লাস ব্যর্থ হলো কি করে?
প্রধান ব্যর্থতার কারণ ছিল এই যে গুগল নিজেই জানতো না এর কাঙ্খিত ক্রেতা কারা।
ডেভেলপার টিমের এক পক্ষ চেয়েছিল একে ফ্যাশনেবল বা সারা দিনের পরিধানযোগ্য ডিভাইস করতে। আরেক দল চেয়েছিল শুধু নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহার করতে।
প্রথম এডিশন ২০১৪ সালে ১৫০০ ডলারের বিনিময়ে বাজারজাত করা হয়। এই উচ্চমূল্য শুধুমাত্র অভিজাত শ্রেণি বহন করতে পারত।
তবে গ্লাসটি দেখতে খারাপ হওয়ায় এটি অভিজাত কূলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি না করে বরং তাদের কটাক্ষ করতো। মাত্র ৩০ সেকেন্ড ভিডিও করলেই ব্যাটারি শেষ হয়ে যেত এবং অধিক তাপ উৎপাদন করত।
ফলস্বরূপ ২০১৫ সালে প্রথম এডিশন বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।
ভোক্তা বাজারের ভয়াবহ ব্যর্থতার পর গুগল তাদের প্রথম এডিশন বন্ধ করে দেয় এবং ২০১৭ সাল থেকে গুগল ক্লাস ইন্টারপ্রাইজ এডিশন নামে নতুন সংস্করণের কাজ শুরু করে।
নতুন সংস্করণটি স্বাস্থ্য, সেবা, উৎপাদন শিল্প এবং লজিস্টিক এর মত নির্দিষ্ট ব্যবহারের দিকে মন দিয়েছিল। পাশাপাশি উন্নত স্পেসিফিকেশন এবং উন্নত ব্যাটারির লাইফও নিয়ে এসেছিল যা এর নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়।
তবে এন্টারপ্রাইজ এডিশন বাজারে সাফল্য কিছুটা পেলেও ব্যাপক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারেনি। গুগল গ্লাসকে শুধুমাত্র প্রফেশনালদের জন্য তৈরি ডিভাইস বলে ধরা হত।
আরও পড়ুন:
বাজারে এলো মেটার নতুন স্মার্ট গ্লাস
গুগল গ্লাস সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একটি ধারণা কিন্তু এটি ছিল ভোক্তদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। এর গোপন রেকর্ডিং ফিচার জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
অগমেন্টেড রিয়েলিটির (Augmented Reality-AR) ব্যবহার গুগল গ্লাসকে আশপাশের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করতে দিত যা আশেপাশের মানুষকে তাদের গোপনীয়তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতো।
স্মার্ট ফোন দিয়ে দ্রুতই ছবি তোলা যায় তাই গ্লাস কেও এমন কিছু সমাধান করতে হতো যা ফোন কখনো করতে পারত না এখানে ছিল গুগল গ্লাসের ব্যর্থতা।









