ইন্টারনেটের জগতে এখন নতুন এক বিপ্লবের নাম ওয়েব৩ (Web3)।
এটি এমন এক পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারনেট, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই তাদের ডেটা ও অনলাইন পরিচয়ের মালিক হবেন—কোনো বড় কোম্পানি বা প্ল্যাটফর্ম নয়।
ওয়েব৩ ধারণার মূল ভিত্তি হলো ব্লকচেইন প্রযুক্তি।
এটি ডিসেন্ট্রালাইজড (বিকেন্দ্রীকৃত) অর্থাৎ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা সার্ভারের নিয়ন্ত্রণে নয়।
এখানেই ওয়েব৩ ভিন্ন—ওয়েব১ ছিল শুধু পড়ার (Read), ওয়েব২ ছিল পড়া ও লেখা (Read + Write)।
আর ওয়েব৩ হলো পড়া, লেখা ও মালিকানা। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর মালিকানা যুক্ত ইন্টারনেট।
আরও পড়ুন: এনএফটি: সম্পদের মালিকানা বদলে দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি
ওয়েব৩-এর ধারণা প্রথম আসে ২০১৪ সালে ইথেরিয়ামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন উড (Gavin Wood)-এর কাছ থেকে।
তবে এটি বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে ২০২০ সালের পর, যখন ক্রিপ্টোকারেন্সি, এনএফটি এবং ডিফাই প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ওয়েব৩ কাজ করে স্মার্ট কনট্রাক্ট ও টোকেন ইকোনমির মাধ্যমে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—কোনো সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা তাদের পোস্টের মাধ্যমে টোকেন আয় করতে পারেন, বা কোনো গেম খেললে ডিজিটাল সম্পদের মালিক হতে পারেন।
সব লেনদেন ব্লকচেইনে স্বচ্ছভাবে সংরক্ষিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়েব৩ ইন্টারনেটকে আরও গোপনীয়, নিরাপদ ও ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক করে তুলবে।
তবে এখনো এটি উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তবুও অনেকেই বলছেন—ওয়েব৩-ই হবে ভবিষ্যতের মুক্ত ও স্বচ্ছ ইন্টারনেটের পথপ্রদর্শক।








