ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রিপ্টো ওয়ালেট (Crypto Wallet)।
এটি এমন এক ধরনের ডিজিটাল মানিব্যাগ, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাদের বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, সোলানা, ডজকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি নিরাপদে সংরক্ষণ, পাঠানো ও গ্রহণ করতে পারেন।
সহজভাবে বললে, বাস্তব জীবনে যেমন আমরা টাকার মানিব্যাগ ব্যবহার করি, ডিজিটাল জগতে সেই কাজটিই করে ক্রিপ্টো ওয়ালেট।
ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাধারণত দুই ধরনের—হট ওয়ালেট ও কোল্ড ওয়ালেট।
হট ওয়ালেট ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। যেমন মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন ওয়ালেট।
উদাহরণ হিসেবে মেটামাস্ক (MetaMask), ট্রাস্ট ওয়ালেট (Trust Wallet) বা কয়েনবেস ওয়ালেট (Coinbase Wallet) উল্লেখ করা যায়।
আরও পড়ুন: স্ট্যাবল কয়েন: ক্রিপ্টো দুনিয়ার স্থিতিশীল মুদ্রা
অপরদিকে, কোল্ড ওয়ালেট ইন্টারনেট সংযুক্ত নয়; এটি হার্ডওয়্যার বা কাগজে সংরক্ষিত থাকে।
যেমন লেজার (Ledger) বা ট্রেজর (Trezor)। এই কোল্ড ওয়ালেটগুলো সাধারণত বেশি নিরাপদ বলে বিবেচিত।
ক্রিপ্টো ওয়ালেটের কাজ হয় দুটি মূল চাবির (Key) মাধ্যমে—পাবলিক কী (Public Key) ও প্রাইভেট কী (Private Key)।
পাবলিক কী হলো ওয়ালেটের ঠিকানার মতো, যার মাধ্যমে অন্য কেউ আপনাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে পারে।
প্রাইভেট কী হলো আপনার ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড, যা দিয়ে আপনি নিজের ক্রিপ্টো ব্যবহার বা পাঠাতে পারেন।
প্রাইভেট কী হারিয়ে গেলে সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়।
ওয়ালেটের প্রতিটি লেনদেন ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে।
তাই এখানে কোনো ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করতে হলে বিশ্বস্ত ওয়ালেট বেছে নেয়া।
প্রাইভেট কী গোপন রাখা ও দুই ধাপ যাচাইকরণ (2FA) সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কারণ, ক্রিপ্টো ওয়ালেটই হলো আপনার ডিজিটাল সম্পদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঢাল।







