দশকের শুরুতে শুধুমাত্র শখ বা বিনোদনের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল ভিডিও গেম খেলা। আজ সেই খেলা বিশ্বজুড়ে পেশাদার প্রতিযোগিতার এক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে।
ই-স্পোর্টস বা ইলেকট্রনিক স্পোর্টস, যা শুরুতে অনলাইন গেমারদের একটি ছোট কমিউনিটির জন্য ছিল।
এখন একটি বৃহৎ শিল্পে পরিণত হয়েছে। যেখানে লাখো খেলোয়াড় ও কোটি কোটি দর্শক অংশ নিচ্ছেন।
ই-স্পোর্টস মূলত ভিডিও গেম খেলার প্রতিযোগিতা। খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিভিন্ন গেমে।
যেমন ডোটা ২, লিগ অফ লেজেন্ডস, ফোর্টনাইট, কল অব ডিউটি, ক্যাউন্টার স্ট্রাইক।
প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র খ্যাতি অর্জনের জন্য নয়, বরং বড় পুরস্কার, স্পন্সরশিপের সুযোগও এখানে আছে।
গত মাসে অনুষ্ঠিত ডোটা ২ ইন্টারন্যাশনাল ২০২৫-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২০টি দল অংশগ্রহণ করে।
প্রতিটি দল তাদের কৌশল, টিমওয়ার্ক, দ্রুত প্রতিক্রিয়ার দক্ষতা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।
বিজয়ী দলটি কেবল ট্রফিই নয়, কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রাইজ মানিও জিতেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে শিক্ষকরা গণিত, বিজ্ঞান ও ইতিহাস শেখান যে ভিডিও গেমে
বিশ্বজুড়ে ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
ফোর্টনাইট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজ, লিগ অব লেজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপ, পাবজি ওয়াল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এমন কিছু উদাহরণ।
যেখানে লাখ লাখ দর্শক অনলাইনে লাইভ স্ট্রিমিং দেখেন।
শুধুমাত্র দর্শক সংখ্যা নয়, বিভিন্ন স্পন্সর এবং ব্র্যান্ডও এখন এই ই-স্পোর্টস ইভেন্টে বিনিয়োগ করছে।
ফলে গেমাররা আর শুধুমাত্র শখের জন্য নয়, পেশাদার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-স্পোর্টসের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, শক্তিশালী কম্পিউটার ও কনসোল, দ্রুতগতির ইন্টারনেট।
এছাড়াও, অনলাইন কমিউনিটি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গেমাররা একে অপরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ ও প্রতিযোগিতা করতে পারছেন।
অনেক খেলোয়াড়ই ছোট বয়স থেকে অনলাইনে গেম খেলতে শুরু করে। এখন তারা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।
ই-স্পোর্টস শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্মও।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে ইউটিউব
খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্ব, দলবদ্ধ কাজ, এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হচ্ছে।
দর্শকদের জন্যও এটি একটি বিনোদনের উৎস, কারণ তারা তাদের প্রিয় খেলোয়াড় ও দলের খেলা সরাসরি দেখতে পান। সমর্থন জানাতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে ই-স্পোর্টসের অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য।
মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার, বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের আয় মিলে এটি এখন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দশকে ই-স্পোর্টস আরও পেশাদার ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠবে।
এটি সাধারণ ক্রীড়ার সঙ্গে সমানভাবে স্বীকৃতি পাবে।
সংক্ষেপে, ই-স্পোর্টস হলো আধুনিক ক্রীড়া ও বিনোদনের এক নতুন যুগ।
এটি গেমারদের জন্য শুধু খেলার আনন্দ নয়, পেশাদার ক্যারিয়ার, সামাজিক সংযোগ ও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি এনে দিচ্ছে।
শখ থেকে শুরু হওয়া এই অনলাইন প্রতিযোগিতা আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে একত্রিত করেছে।
ভবিষ্যতের ক্রীড়া জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।









