বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্লকচেইন (Blockchain)।
এটি এমন এক বিকেন্দ্রীকৃত (Decentralized) প্রযুক্তি, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ করা হয় একাধিক কম্পিউটারে একসঙ্গে।
ফলে কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে পারে না।
নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে ব্লকচেইন এখন শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সিতেই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ব্লকচেইন: নিরাপদ ও স্বচ্ছ লেনদেনের ডিজিটাল প্রযুক্তি
ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক মূলত চার ধরনের—পাবলিক, প্রাইভেট, কনসোর্টিয়াম ও হাইব্রিড।
🔹 পাবলিক ব্লকচেইন সবার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এতে অংশ নিতে ও লেনদেন যাচাই করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম নেটওয়ার্ক সবচেয়ে পরিচিত।
🔹 প্রাইভেট ব্লকচেইন নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণ বা ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যবহৃত হয়।
🔹 কনসোর্টিয়াম ব্লকচেইন পরিচালনা করে একাধিক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে, যেখানে সবাই মিলে ডেটা নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের দায়িত্ব নেয়।
🔹 হাইব্রিড ব্লকচেইন হলো পাবলিক ও প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মিশ্র সংস্করণ, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্মুক্ত ও সীমাবদ্ধ উভয় ধরনের সুবিধা থাকে।
বর্তমানে ব্লকচেইনের ব্যবহার শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নয়।
এটি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাংকিং, সাপ্লাই চেইন, স্বাস্থ্যসেবা, ভোটিং সিস্টেম, ডিজিটাল আইডেন্টিটি ও শিক্ষা খাতেও।
উদাহরণস্বরূপ, ব্লকচেইনের মাধ্যমে কোনো পণ্যের উৎপাদন থেকে বিক্রয় পর্যন্ত সম্পূর্ণ যাত্রাপথ স্বচ্ছভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব, যা জালিয়াতি ও তথ্য বিকৃতি রোধ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ব্লকচেইন হবে এমন একটি ভরসাযোগ্য তথ্যভিত্তিক অবকাঠামো, যা সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করবে।
নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল দুনিয়া গড়ার পথে ব্লকচেইনই হতে পারে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।








